ডায়রিয়ার ফলে যে পানির ক্ষতি হয় তা পূরণ করতে প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। একটি উদাহরণ হিসাবে, যেকোনো তরল খাবার যেমন স্যালাইন, জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি বিবেচনা করুন।
তবে, নিছক তরল খাবার খাওয়া শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণ করে না, তাই তরল খাবারের পাশাপাশি কঠিন বা আধা-তরল খাবার খাওয়া উচিত।
শিশুর ডায়রিয়া হলে যা খাওয়ানো উচিত
১। প্রচুর শক্তি সমৃদ্ধ খাবার:
খাদ্যশস্য, দই এবং চর্বি জাতীয় খাবারের শক্তি বেশি। এমনকি যখন আমাদের ডায়রিয়া হয়, তখনও আমাদের শরীর কার্যকরভাবে সেগুলি শোষণ করে।
তাই অল্প অল্প করে, সুলভে পাওয়া যায় এমন উচ্চ শক্তি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। যেগুল খাবারগুলো আপনার শিশুর পছন্দ বাপরিচিত সেগুলো বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। চাইলে ভাত বা রুটির সাথে সামান্য ভেজিটেবল অয়েল মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারেযাতে খাবারে শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২। দই:
দইতে উপকারী অণুজীব রয়েছে যা ডায়রিয়া বন্ধ করতে পারে। দইয়ের প্রোবায়োটিক এই সময়ে পেটকে শান্ত রাখে।
৩।কলা:
ডায়রিয়া প্রতিরোধে কলা অপরিহার্য। শরীর পুষ্টি এবং জল হারায়, যা কলা পূরণ করতে সাহায্য করে। কলা হজম করা সহজ। তাই এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তিও কমায়।
৪।খিচুড়ি:
ডায়রিয়া হলে ভাজা বা বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো। অতএব, আপনার নিজের মুগ ডাল খিচুড়ি তৈরি করা আপনার পেট ঠান্ডা রাখবে এবং আপনাকে শক্তি জোগাবে।
৫। আলু:
এক চিমটি লবণ এবং গোলমরিচ দিয়ে সিদ্ধ আলু খাওয়া বা ভর্তা হিসাবে ব্যবহার করা ডায়রিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৬। ফলের রস:
কমলা, ডাব, ডালিম, বা তরমুজের রস, জলের সাথে, আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখবে এবং মাথা ঘোরা উপশম করবে।
শিশুর ডায়রিয়া হলে যা খাওয়ানো উচিত না:
1. প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার যেমন–তুলনামূলক শক্ত ফল বা শাক সবজি, হোল গ্রেইন সিরিয়াল।
2. মশলাদার রান্না।
3. চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ডায়রিয়া আরও খারাপ হতে পারে।
4. মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোন দুধ; সরাসরি দুধ দেওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, যদিও এর পরিবর্তে দই দেওয়া যেতে পারে।
5.ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় ডায়রিয়া হলে খাওয়া উচিৎ না। এই সময় চা বা কফি পেটের জ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এর পরিবর্তে আপনি আদা চা খেতে পারেন।

.png)